ঢাকায় প্লট বিক্রি: কাগজ, কর, জটিল প্লট, বিদেশ থেকে বিক্রি ও নিরাপত্তা (2026)
সংক্ষেপে: ঢাকায় রাজউকের প্লট (যেমন পূর্বাচল, উত্তরা) আর বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের প্লট (যেমন বসুন্ধরা) বিক্রির নিয়ম আলাদা, তবে কিছু বিষয় সবার জন্য এক: বিক্রেতা দলিলের আগে উৎসে কর দেন, সিটি করপোরেশন বা পৌর এলাকায় রেজিস্ট্রিতে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR) লাগে, আর বায়নানামা সই করার 60 দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করতে হয়। নিচে কাগজ, কর, জটিল অবস্থার প্লট, বিদেশ থেকে বিক্রি আর নিরাপত্তার নিয়ম এক জায়গায় দেওয়া হলো।
প্লট বিক্রি করতে কী কী কাগজ লাগে?
রাজউকের প্লট (যেমন পূর্বাচল, উত্তরা):
- রাজউকের বরাদ্দপত্র আর দখল হস্তান্তরের কাগজ
- রেজিস্ট্রি করা লিজ দলিল
- আপনি মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত না হলে আগের সব দলিল আর রাজউকের রেকর্ডে আপনার নাম থাকার প্রমাণ (নামজারি)
- খতিয়ান, ডিসিআর (নামজারির ফি জমার রসিদ) আর ভূমি উন্নয়ন করের হালনাগাদ রসিদ
বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের প্লট (যেমন বসুন্ধরা):
- কোম্পানির বরাদ্দ ও দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কাগজ
- আপনার নামে রেজিস্ট্রি করা সাফ কবলা দলিল আর আগের সব দলিল (বায়া দলিল)
- নামজারি খতিয়ান, ডিসিআর আর ভূমি উন্নয়ন করের হালনাগাদ রসিদ
দুই ধরনেই: জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন আর আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR)। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় জমির বিক্রির দলিল, বায়নানামা বা আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রিতে PSR দেখাতে হয় (আয়কর আইন 2023, ধারা 264); কোন পক্ষের লাগবে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জেনে নিন। প্লটে ব্যাংক ঋণ থাকলে ঋণ শোধের সনদ আর বন্ধক মুক্তির কাগজও লাগে।
প্লট বিক্রি করলে কি কর (ট্যাক্স) দিতে হয়?
হ্যাঁ। আবাসিক প্লট বিক্রিতে বিক্রেতা উৎসে কর দেন: দলিল মূল্যের 5% অথবা মৌজা যে থানা বা এলাকায়, সে অনুযায়ী শতকপ্রতি নির্দিষ্ট টাকা, যেটি বেশি (উৎসে কর বিধিমালা 2026)। কর দলিলের আগে আলাদা ই-চালানে জমা দিতে হয়।
উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকার থানাগুলোর হার:
| মৌজা যে থানায় | শতকপ্রতি সর্বনিম্ন |
|---|---|
| উত্তরা মডেল থানা | 1,75,000 টাকা |
| উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ভাটারা, দক্ষিণখান, উত্তরখান | 1,50,000 টাকা |
দলিল মূল্য সরকারি মৌজা মূল্যের নিচে লেখা যায় না। বিক্রেতার উৎসে কর অগ্রিম আয়কর; অর্থ আইন 2026-এর পর এটি চূড়ান্ত কর নয়, বার্ষিক রিটার্নে সমন্বয় হয়। তাই রিটার্নে বাড়তি কর আসতে পারে, ফেরতও হতে পারে; কর উপদেষ্টার সাথে কথা বলুন। নিজের অঙ্ক বসিয়ে হিসাব করতে পারবেন উত্তরা ও বসুন্ধরা পাতার হিসাবযন্ত্রে; পূর্বাচলের হিসাব আছে পূর্বাচলের হস্তান্তর গাইডে।
রেজিস্ট্রির অন্য খরচ: রেজিস্ট্রেশন ফি 1%, স্ট্যাম্প শুল্ক 1.5% আর স্থানীয় সরকার কর (সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় 2%, ইউনিয়ন এলাকায় 3%) সাধারণত ক্রেতা দেন। ব্যক্তির জমি বিক্রি ও রেজিস্ট্রিতে ভ্যাট নেই; ভূমি উন্নয়ন বা ভবন নির্মাণ সংস্থার বিক্রি এই অব্যাহতির বাইরে (অর্থ আইন 2026)। মোট খরচ লেনদেনের আগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মিলিয়ে নিন। রাজউকের তফসিলভুক্ত প্লটে ক্রেতা রাজউকের হস্তান্তর ফিও দেন: খালি প্লটে দলিল মূল্যের 3%, বাড়িসহ জমি বা ফ্ল্যাটে 2%।
প্লটের অবস্থা জটিল হলে কী করবেন
ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া প্লট কীভাবে বিক্রি করবেন?
রাজউকের তফসিলভুক্ত আবাসিক প্লটে উত্তরাধিকার সূত্রে নাম তুলতে রাজউকের আগাম অনুমতি লাগে না (প্রজ্ঞাপন, 9 নভেম্বর 2025)। রাজউকের আগস্ট 2026-এর নাগরিক সনদে উত্তরাধিকারের কাগজের তালিকা: অনলাইন মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ সনদ (কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়রের), প্রযোজ্য হলে আদালতের উত্তরাধিকার সনদ, ছবি, 300 টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা আর জাতীয় পরিচয়পত্র। বেসরকারি প্রকল্পে ওয়ারিশরা অনলাইনে ই-নামজারি করেন (মোট 1,170 টাকা); কোম্পানির রেকর্ডে নাম তুলতে কী লাগবে, কোম্পানির অফিসে লিখিতভাবে জেনে নিন।
বিক্রির দলিলে সব ওয়ারিশকে সই করতে হয়, নিজে বা রেজিস্ট্রি করা আমমোক্তারনামায়। ওয়ারিশদের কেউ নাবালক হলে তার অংশ বিক্রিতে আদালত থেকে অভিভাবক নিয়োগ ও বিক্রির আগাম অনুমতি নিতে হয় (অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ধারা 29)।
ব্যাংক ঋণে বন্ধক থাকা প্লট কি বিক্রি করা যায়?
যায়, তবে বিক্রির আগে ঋণ শোধ করে ব্যাংকের ছাড়পত্র (এনওসি) বা রেজিস্ট্রি করা দায়মোচন দলিল নিতে হয়, আর মূল কাগজ ব্যাংক থেকে ফেরত আনতে হয়। ব্যাংক অনেক সময় অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামাও রাখে; সেটিও বাতিল করাতে হয়। ক্রেতার টাকায় ঋণ শোধ করতে চাইলে কোন টাকা কখন কোথায় যাবে, বায়নানামায় স্পষ্ট লিখুন।
শুধু আমমোক্তারনামায় পাওয়া প্লট কি বিক্রি করা যায়?
রেজিস্ট্রি করা আমমোক্তারনামায় বিক্রির ক্ষমতা লেখা থাকলে প্রতিনিধি দলিল করতে পারেন। দাতা মারা গেলে অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামার অধিকার ও দায় ওয়ারিশদের ওপর যাওয়ার বিধান আছে, তবে একক গ্রহীতার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ধারা 4(6)); এমন প্লটে আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন। রাজউকের তফসিলভুক্ত প্লটে আমমোক্তারনামা করা বা বাতিল করতে রাজউকের অনুমতি আর লাগে না (প্রজ্ঞাপন, 9 নভেম্বর 2025); রাজউকের নাগরিক সনদ অনুযায়ী এটিও 90 দিনের মধ্যে রাজউকে জমা দিয়ে রেকর্ড করাতে হয়। ক্রেতা আমমোক্তারনামার কপি দেখতে চাইবেন, আর সেটি আগে বাতিল হয়েছে কি না যাচাই করবেন।
রাজউকের লিজ দলিল না হলে কী করবেন?
লিজ দলিল ছাড়া সাফ কবলা বা বন্ধক হয় না। পথ হলো: সব কিস্তি শোধ, দখল বুঝে নেওয়া ও চূড়ান্ত জরিপ, তারপর লিজ দলিল রেজিস্ট্রি। রাজউকের প্রতিনিধি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সই করেন; নাগরিক সনদে এর সময় 30 কর্মদিবস। এরপর বিক্রি।
বেসরকারি প্রকল্পে কোম্পানির সাফ কবলা না হলে কী করবেন?
বসুন্ধরার মতো প্রকল্পে কোম্পানির শর্তাবলি অনুযায়ী পুরো টাকা শোধ, দখল আর রেজিস্ট্রি করা সাফ কবলার আগে কোম্পানির লিখিত সম্মতি ছাড়া প্লট হস্তান্তর বা বন্ধক রাখা যায় না।
মূল কাগজ হারিয়ে গেলে কী করবেন?
থানায় জিডি করুন আর পত্রিকায় হারানোর বিজ্ঞপ্তি দিন। রাজউকের প্লটে জিডি আর দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজউক থেকে সার্টিফায়েড কপি নেওয়া যায়; নাগরিক সনদে প্রতিটি কপির ফি 2,000 টাকা আর নির্ধারিত মূল্যের ওপর 5%, সময় 27 কর্মদিবস। রেজিস্ট্রি করা দলিলের সার্টিফায়েড কপি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে তোলা যায়।
প্লটে বাড়ি বা ভবন নির্মাণে ডেভেলপারের চুক্তি থাকলে কী করবেন?
রাজউকের প্লটে বাড়িসহ জমি বিক্রিতে হস্তান্তর ফি দলিল মূল্যের 2%, খালি প্লটে 3%। ভবন নির্মাণে ডেভেলপারকে দেওয়া আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রি করা ও অপ্রত্যাহারযোগ্য; 30 দিনের নোটিশ ছাড়া বাতিল করলে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন 2010 অনুযায়ী সর্বোচ্চ 2 বছর কারাদণ্ড বা 10 লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তাই বিক্রির আগে চুক্তি আর আমমোক্তারনামার বিষয়টি আইনজীবীর সাথে মিটিয়ে নিন।
বিদেশে থেকে কীভাবে প্লট বিক্রি করবেন?
দেশে না এসেও প্লট বিক্রি করা যায়, রেজিস্ট্রি করা আমমোক্তারনামার (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) মাধ্যমে। ধাপগুলো এমন:
- দেশে খসড়া: বিক্রির জন্য অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামার খসড়া দেশে তৈরি করান, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা 2015-এর ফর্মে। এতে লিখতে হয় বায়নানামা ও দলিলে সই, দলিল দাখিল আর দাম গ্রহণের ক্ষমতা; মালিক ও প্রতিনিধির ছবি আর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি লাগে।
- দূতাবাসে সই: মালিক নিজে বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটে গিয়ে সই করেন; অনলাইনে বা ডাকে সই হয় না। ফেব্রুয়ারি 2025-এর সংশোধনে পাসপোর্টের বদলে জাতীয় পরিচয়পত্রও চলে, আর “নো ভিসা রিকোয়ার্ড” স্টিকারসহ বিদেশি পাসপোর্টধারীও সই করতে পারেন। ফি দূতাবাসভেদে আলাদা, যেমন লন্ডনে 5 পৃষ্ঠা পর্যন্ত 64 পাউন্ড, নিউইয়র্কে 55 ডলার, দুবাইয়ে সাধারণ সেবায় 37 দিরহাম। অনেক দূতাবাস জমির মালিকানার প্রমাণ হিসেবে খতিয়ান, নামজারি বা দাখিলা চায়।
- দেশে পাঠানো: দূতাবাসের সত্যায়নের 6 মাসের মধ্যে মূল কপি দেশে পাঠাতে হয়। লন্ডন হাইকমিশন বলছে স্বাক্ষরের 60 দিনের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন করাতে হবে, তাই দেরি না করে পাঠান।
- সত্যায়ন, স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রি: দলিলটি দেশে আসার 2 মাসের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, 3 মাসের মধ্যে কালেক্টরের অফিসে স্ট্যাম্প (স্ট্যাম্প আইন, ধারা 18), আর 4 মাসের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, বিধি 10)। বিক্রির জন্য দেওয়া অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা বিনিময়মূল্য ছাড়া হলে স্ট্যাম্প শুল্ক 1,500 টাকা।
- প্রতিনিধি বিক্রি করেন: প্রতিনিধি বায়নানামা, দলিল আর পরের কাজগুলো করতে পারেন। তাঁর কাজ আইনে আপনার নিজের কাজ বলে গণ্য হয়, তাই বিশ্বস্ত কাউকে বাছুন।
- টাকা: দাম ক্রেতা ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি আপনার নিজের অ্যাকাউন্টে দেবেন, প্রতিনিধির হাতে নগদ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুযায়ী সম্পত্তি বিক্রির টাকা প্রবাসীর অনিবাসী টাকা অ্যাকাউন্টে জমা রাখা যায়; সেই টাকা বিদেশে নিতে সাধারণত ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে।
অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না, তাই কাকে দিচ্ছেন আর কী ক্ষমতা দিচ্ছেন, ভেবে ঠিক করুন; খসড়ার আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
নিরাপদে বিক্রি: যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
জমি কেনাবেচায় প্রতারণার খবর নিয়মিত আসে। 2024 সালের মে মাসে সিআইডি এমন একটি চক্র ধরে, যারা ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় জমি-ফ্ল্যাটের মালিকদের বায়না দিয়ে “যাচাইয়ের জন্য” দলিলের কপি নিত। তারপর জাল দলিল বানিয়ে একই সম্পত্তি দেখিয়ে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিত (বিডিনিউজ24, 4 মে 2024)। মালিক সেজে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র আর জাল আমমোক্তারনামা দিয়ে জমি বিক্রির প্রতারণা নিয়েও সংবাদমাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে (যুগান্তর, 13 নভেম্বর 2025)। তাই বিক্রির সময়:
- মূল কাগজ রেজিস্ট্রির দিন পর্যন্ত নিজের কাছে রাখুন। শুরুতে ক্রেতাকে শুধু কপি দেখান; সব কাগজের কপি একসাথে হাতে দেবেন না।
- ক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে নিন, আর বায়নার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে নিন।
- বাকি টাকা পে অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটে নিন, আর যে ব্যাংকের পে অর্ডার বা ড্রাফট, সেই ব্যাংকে যাচাই করুন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নগদ টাকার লেনদেন এড়িয়ে চলুন।
- বায়নানামায় রেজিস্ট্রির শেষ তারিখ, আর কেউ পিছিয়ে গেলে বায়নার টাকার কী হবে, লিখে রাখুন। সই করার আগে আইনজীবীকে দেখান।
- আমমোক্তারনামা দিতেই হলে শুধু নির্দিষ্ট কাজের জন্য দিন, আর রেজিস্ট্রি করে দিন। ফাঁকা কাগজে বা না পড়ে কোনো কাগজে সই করবেন না।
- প্রকাশ্য বিজ্ঞাপনে প্লট নম্বর আর নিজের ফোন নম্বর দেবেন না।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন 2023 অনুযায়ী ভুয়া পরিচয়ে বা জাল দলিলে জমি হস্তান্তর করলে সর্বোচ্চ 7 বছর কারাদণ্ড হতে পারে (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 9 জুন 2024)।
2025–2026-এর পরিবর্তন
- রাজউকের প্লটে অনুমতি ছাড়া বিক্রি: 9 নভেম্বর 2025-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী রাজউকসহ মন্ত্রণালয়ের সংস্থার তফসিলভুক্ত আবাসিক প্লট আগাম অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করা যায়; ব্যতিক্রমও আছে।
- বায়নানামার সময় 60 দিন: 1 জানুয়ারি 2026 থেকে বায়নানামা রেজিস্ট্রির জন্য দাখিলের সময় সই করার পর 30 দিন থেকে বেড়ে 60 দিন হয়েছে (রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) আইন 2026)।
- উৎসে কর চূড়ান্ত নয়: অর্থ আইন 2026-এর পর জমি হস্তান্তরের উৎসে কর বার্ষিক রিটার্নে সমন্বয় হয়।
- বাজারমূল্যে রেজিস্ট্রি: সরকার মৌজা মূল্যের বদলে আসল বাজারমূল্যে দলিল রেজিস্ট্রির পরিকল্পনা করছে; নতুন ফি ও কর 1 জুলাই 2027 থেকে কার্যকর হওয়ার কথা (টিবিএস, 23 অক্টোবর 2026)। এটি এখনো পরিকল্পনা।
- রেজিস্ট্রি খরচ কমানোর সুপারিশ: জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি জমি ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি খরচ অর্ধেক করার সুপারিশ করেছে (প্রথম আলো, 29 জানুয়ারি 2026)। এটি সুপারিশ, কার্যকর নিয়ম নয়।
এলাকা ধরে দাম ও নিয়ম
- উত্তরায় প্লট বিক্রি: সেক্টর ধরে কাঠাপ্রতি দাম, রাজউকের তফসিল আর উচ্চতা-সীমা।
- বসুন্ধরায় প্লট বিক্রি: ব্লক ধরে কাঠাপ্রতি দাম আর বিক্রির কাগজ।
- পূর্বাচলে প্লট বিক্রি আর পূর্বাচলের হস্তান্তর ও নামজারি গাইড।
সূত্র
- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, 9 নভেম্বর 2025 (রাজউকের ওয়েবসাইটে)
- প্রথম আলো, 10 নভেম্বর 2025: সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরে অনুমতি লাগবে না
- রাজউক নাগরিক সনদ, আগস্ট 2026 (এস্টেট ও ভূমি শাখা)
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড: উৎসে কর বিধিমালা 2026, বিধি 6
- PwC বাংলাদেশ: অর্থ আইন 2026-এর প্রধান সংশোধন
- স্ট্যাম্প আইনের তফসিল (অর্থ আইন 2022), আইটেম 22: কবলা দলিলে 1.5%
- টিবিএস, 2 জুন 2025: রেজিস্ট্রেশন কর ও স্থানীয় সরকার কর
- অর্থ (2025-26 অর্থবছর) আইন 2026, ধারা 26: জমি ও ভবন বিক্রি ও নিবন্ধনে ভ্যাট অব্যাহতি
- সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সোনাতলা (বগুড়া): সাফ কবলা দলিলের ফি
- প্রথম আলো, 29 জানুয়ারি 2026: রেজিস্ট্রি খরচ ও তা অর্ধেক করার সুপারিশ
- রেজিস্ট্রেশন আইন, ধারা 17ক: বায়নানামা 60 দিনের মধ্যে (2026-এর সংশোধন)
- রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) আইন 2026
- যুগান্তর, 18 আগস্ট 2026: ই-নামজারির খরচ 1,170 টাকা
- ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট: শর্তাবলি
- অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ধারা 29
- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন 2012
- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন 2012, ধারা 4
- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা 2015 (গেজেট; বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনের ওয়েবসাইটে)
- স্ট্যাম্প আইন 1899, ধারা 18: বিদেশে সম্পাদিত দলিলে স্ট্যাম্প
- অর্থ আইন 2022, স্ট্যাম্প আইনের তফসিল (আইটেম 47: আমমোক্তারনামা)
- আয়কর আইন 2023, ধারা 264: রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR)
- রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন 2010, ধারা 29
- বিডিনিউজ24, 7 নভেম্বর 2025: প্রবাসীদের আমমোক্তারনামার নিয়মে পরিবর্তন
- বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডন: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
- বাংলাদেশ কনস্যুলেট নিউইয়র্ক: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন
- বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
- বাংলাদেশ ব্যাংক: বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকা, খণ্ড 1
- বিডিনিউজ24, 4 মে 2024: বায়না দিয়ে দলিলের কপি নিয়ে জালিয়াতি চক্র
- যুগান্তর, 13 নভেম্বর 2025: মালিক সেজে জমি বিক্রির চক্র
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, 9 জুন 2024: ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন 2023
- টিবিএস, 23 অক্টোবর 2026: বাজারমূল্যে সম্পত্তি মূল্যায়নের পরিকল্পনা
সর্বশেষ যাচাই: 27 অক্টোবর 2026। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি বা কর পরামর্শ নয়; লেনদেনের আগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, প্রয়োজনে রাজউক বা প্রকল্পের কোম্পানি, আইনজীবী ও কর উপদেষ্টার কাছে মিলিয়ে নিন।