English 01711-482191

পূর্বাচলের প্লটের মালিক কে, রাজউকে যেভাবে যাচাই করবেন (2026)

পূর্বাচলের প্লট মালিকদের কোনো সরকারি “তালিকা” রাজউক প্রকাশ করেছে, এমন কিছু আমরা পাইনি। তবে রাজউকের দুটি অনলাইন অনুসন্ধান আছে, যেখানে প্রকল্প, সেক্টর, রাস্তা ও প্লট বেছে খোঁজা যায়: ইপিএমএস পোর্টালের “মালিকানা তথ্য অনুসন্ধান” এবং পুরোনো WPLRS। 10 অক্টোবর 2026 দুটিই লগইন ছাড়া খুলেছে। সেখানে যা দেখাবে তা কেবল প্রাথমিক যাচাই; মালিকানার প্রমাণ রাজউকের নিজের নথি, যা টাকা দেওয়ার আগে বিক্রেতাকে সঙ্গে নিয়ে এস্টেট ও ভূমি শাখায় মিলিয়ে নিতে হবে।

পূর্বাচলের প্লট মালিকের তালিকা কি অনলাইনে পাওয়া যায়?

রাজউকের প্রকাশ করা এমন কোনো তালিকা আমরা পাইনি। ফেসবুকে বা পিডিএফ আকারে যে তালিকা ঘোরে, সেগুলো রাজউকের নথি নয়; তা দিয়ে কিছু প্রমাণ হয় না। প্লটের নম্বর দেওয়া হয়েছে রাজউকে লটারি করে (যেমন 28 মে 2017 তারিখে 670 জন আদি অধিবাসী প্লট আইডি পান, জাগো নিউজ), কিন্তু সেই ফলাফলের কোনো সরকারি অনলাইন সংরক্ষণাগার আমরা পাইনি। রাজউকের নিজের যা অনলাইনে আছে:

রাজউকের পাতাকী দেখায়10 অক্টোবর 2026 আমরা যা দেখেছি
ইপিএমএস: মালিকানা তথ্য অনুসন্ধানপ্লট না ফ্ল্যাট, প্রকল্প (তালিকায় “পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প” আছে), সেক্টর, রাস্তা ও প্লট বেছে নিতে হয়। ফলাফলের ছকে প্রকল্প, সেক্টর, রাস্তা, প্লট ও মালিকের নামের ঘর আছে।ফর্মটি লগইন ছাড়াই খুলেছে। পূর্বাচলের তথ্য কতটা সম্পূর্ণ বা হালনাগাদ, তা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।
WPLRS (ওয়েব এনাবলড প্লট বেজড ল্যান্ড রেকর্ড সিস্টেম)গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও পূর্বাচলের সেক্টর-ম্যাপ ও প্লট অনুসন্ধান। সহায়িকা পাতা অনুযায়ী নিবন্ধিত ব্যবহারকারী বাড়তি তথ্য দেখতে পান; নিবন্ধনের তথ্য রাজউকের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলতে হয়।অতিথি হিসেবে ঢোকা গেছে। ব্যবস্থাটি পুরোনো, তথ্যে কোনো তারিখ নেই।
ইপিএমএস: তফসিল ভুক্ত প্লট/ফ্ল্যাটনভেম্বর 2025-এর নিয়মে যেসব প্লট রাজউকের পূর্বানুমতি ছাড়া হস্তান্তর করা যায়, সেগুলোর তালিকা থাকার কথা।পাতায় লেখা ছিল, কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

যে প্লট সত্যিই কিনছেন, কেবল তার জন্যই এই অনুসন্ধান ব্যবহার করুন। নাম মিলে গেলে ভালো লক্ষণ, কিন্তু প্রমাণ নয়; কারণ জালিয়াতও একই পর্দা দেখে নিতে পারে।

টাকা দেওয়ার আগে রাজউকে মালিকানা কীভাবে যাচাই করব?

  1. প্লটের ঠিকানা নিন। বিক্রেতার কাছ থেকে সেক্টর, রাস্তা ও প্লট নম্বর এবং সব কাগজের ফটোকপি চেয়ে নিন।
  2. অনলাইনে খুঁজুন। ইপিএমএসের মালিকানা তথ্য অনুসন্ধানে প্লটটি খুঁজে নাম টুকে রাখুন। বিক্রেতার কাগজের সঙ্গে না মিললে থামুন, কারণ জানতে চান।
  3. বিক্রেতাকে নিয়ে রাজউকে যান। পূর্বাচলের নথি দেখে এস্টেট ও ভূমি শাখা; রাজউকের ঠিকানা রাজউক ভবন, ঢাকা-1000। 1 সেপ্টেম্বর 2026 থেকে এই শাখায় পূর্বাচলের আবেদন ইপিএমএসে অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে (রাজউকের বিজ্ঞপ্তি, 31 আগস্ট 2026); তাই মালিকের কোনো আবেদন চলমান থাকলে তিনি নিজের ইপিএমএস অ্যাকাউন্ট থেকে তার অবস্থা আপনাকে দেখাতে পারেন।
  4. নথি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। এখন বরাদ্দগ্রহীতা বা মালিক হিসেবে কার নাম আছে? সব কিস্তি শোধ হয়েছে? লিজ দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে? কোনো বকেয়া, বন্ধক, বরাদ্দ বাতিল, মামলা বা ঝুলে থাকা আবেদন আছে?
  5. মানুষ আর কাগজ মেলান। বিক্রেতার এনআইডি, নাম, বাবার নাম ও ছবি বরাদ্দপত্র এবং রাজউকের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
  6. রেজিস্ট্রি শুধু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। দলিলের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সার্টিফায়েড কপি রাজউকে জমা দিন; এখনকার নিয়ম ও ফি দেখুন হস্তান্তর ও নামজারি গাইডে।

পুরো কাজের ধারাবাহিকতা আছে আমাদের পূর্বাচলে প্লট কেনার চেকলিস্টে।

বিক্রেতাকে কোন কোন কাগজ দেখাতে হবে?

মূল কপি দেখতে চান, আর প্রতিটি কাগজে সেক্টর, রাস্তা ও প্লট নম্বর একই আছে কি না মিলিয়ে নিন।

  • বরাদ্দপত্র: বরাদ্দগ্রহীতার নাম, তারিখ ও বরাদ্দের ক্যাটাগরি লেখা থাকে।
  • কিস্তির রসিদ: রাজউকে দেওয়া সব টাকার রসিদ; কোনো বকেয়া থাকা চলবে না।
  • লিজ দলিল: রেজিস্ট্রি করা। রাজউকের ইপিএমএস নির্দেশিকায় বলা আছে, নিবন্ধন ছাড়া লিজ বৈধ নয়।
  • দখল হস্তান্তরপত্র (দখলপত্র): বরাদ্দগ্রহীতাকে প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার অনুমোদন হলে রাজউক এটি দেয়।
  • রাজউকের নামজারি: বিক্রেতা প্রথম বরাদ্দগ্রহীতা না হলে লাগবে। ইপিএমএস নির্দেশিকা অনুযায়ী নামজারি সনদ মালিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র: বিক্রেতার নিজের; ওপরের সব কাগজের নামের সঙ্গে মিলতে হবে।

বিক্রেতা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে এলে কী করব?

সতর্কতা আরও বাড়ান। রাজউকের ইপিএমএস নির্দেশিকায় বলা আছে, অ্যাটর্নি কেবল ততটুকুই করতে পারেন যতটুকু দলিলে লেখা; বিক্রির জন্য সুনির্দিষ্ট ও রেজিস্ট্রি করা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি লাগে; আর মালিক মারা গেলে বা বাতিল করলে ক্ষমতা আপনা-আপনি শেষ হয়ে যায়। তাই মালিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন, তিনি জীবিত আছেন ও বিক্রি করতে চান কি না নিশ্চিত হোন, আর টাকা দেওয়ার আগে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিটি রাজউকে দেখিয়ে নিন।

রাজউকে গিয়ে যাচাই করা কেন জরুরি?

2022 সালে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে এক প্রতারণার ঘটনায়, যেখানে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ পূর্বাচলের নয়টি প্লটের জন্য 84 কোটি টাকা দিয়েছিল; প্লটগুলো বিক্রি করা হয় জাল বরাদ্দপত্র, অফিস আদেশ, মালিকানা সনদ ও বিক্রির অনুমতিপত্র দেখিয়ে, ভুয়া এনআইডিধারী সাজানো “মালিক” দিয়ে (প্রথম আলো, 5 অক্টোবর 2022)। “রেজিস্ট্রি” হয়েছিল ক্রেতার নিজের অফিসে, কমিশনের বিনিময়ে রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের লোকজনকে সেখানে এনে। পুলিশ বলেছে, রাজউকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ না নেওয়াতেই ক্রেতারা টাকা খুইয়েছেন; প্লটগুলোর নামজারি তাঁদের নামে কখনো হয়নি।

আরেকটি কারণ আছে। নভেম্বর 2025 থেকে মন্ত্রণালয়ের তফসিলভুক্ত আবাসিক প্লট হস্তান্তরে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের পূর্বানুমতি লাগে না (বাসস, 11 নভেম্বর 2025)। যেখানে এই নিয়ম খাটে, সেখানে দলিলের আগে রাজউকের অনুমোদনের ধাপটি আর নেই; যাচাইয়ের দায়িত্ব তাই আপনার।

কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন?

  • বিক্রেতা আপনার সঙ্গে রাজউকে যেতে চান না, বা বলেন দরকার নেই।
  • সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বদলে কোনো অফিস, বাসা বা হোটেলে রেজিস্ট্রির প্রস্তাব।
  • শুধু ফটোকপি দেখানো হয়; মূল কাগজ “ব্যাংকে” বা “বিদেশে”।
  • এনআইডির নাম বরাদ্দপত্র বা রাজউকের নামজারির সঙ্গে মেলে না।
  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আছে, কিন্তু মালিককে ফোনে বা সামনাসামনি পাওয়া যায় না।
  • রাজউকের অনলাইন অনুসন্ধানে যে নাম আসে, তা বিক্রেতার নাম নয়।
  • কাছাকাছি একই রকম প্লটের চেয়ে দাম অনেক কম, সঙ্গে আজই নগদে বায়না দেওয়ার চাপ।

ব্রোকার কী করতে পারেন, কী পারেন না?

ব্রোকার বিক্রেতা খুঁজে দিতে পারেন, দেখা করার ব্যবস্থা করতে পারেন, আপনার সঙ্গে রাজউকে ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যেতে পারেন। কিন্তু মালিকানা প্রমাণ করতে পারেন না; তা প্রমাণ করে কেবল রাজউকের রেকর্ড। ব্রোকারের মুখের কথা, ফটোকপি বা স্ক্রিনশট তার বিকল্প নয়। আমরা এই ওয়েবসাইটে কখনো মালিকের নাম, প্লট নম্বর বা কাগজপত্র প্রকাশ করি না। দেখতে পারেন বর্তমান প্লটের তালিকা, পড়তে পারেন পূর্বাচল নতুন শহর সম্পর্কে, অথবা যোগাযোগ করুন যোগাযোগ পাতায়, ফোনে 01711-482191 নম্বরে কিংবা WhatsApp-এ।

তথ্যসূত্র

সর্বশেষ যাচাই: 10 অক্টোবর 2026। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়।

WhatsApp-এ শেয়ার করুন

আরও গাইড

পূর্বাচল প্লট হস্তান্তর ও নামজারি: নিয়ম, ধাপ, কাগজপত্র ও খরচ

পূর্বাচল প্লট হস্তান্তরে রাজউকের অনুমতি লাগে কি না, 3% ফি, 90 দিনের নিয়ম, কাগজপত্র ও 3 কোটি টাকার দলিলে খরচের হিসাব।

পূর্বাচলে প্লট কেনার আগে যা যাচাই করবেন

পূর্বাচলে প্লট কেনার আগে 12 ধাপের যাচাই: লেআউট, রাজউকের নথি, বিক্রেতা, বায়না, টাকা দেওয়া, রেজিস্ট্রি।

পূর্বাচল প্লট: সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

পূর্বাচল প্লটের দাম, সেক্টর, কাগজপত্র, হস্তান্তর ও ফি, পানি-বিদ্যুৎ, মেট্রো ও ঋণ নিয়ে 19টি প্রশ্নের উত্তর।

পূর্বাচল নতুন শহর: কোথায়, কয়টি সেক্টর, রাস্তা ও এখন কী কী তৈরি (2026)

পূর্বাচল কোথায়, কোন জেলায়, কয়টি সেক্টর ও প্লট, 300 ফিট রোড, মেট্রো, পানি-বিদ্যুৎ ও কী তৈরি: সূত্রসহ তথ্য।

প্লট নিয়ে কথা বলতে চান?

শনি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল 10টা থেকে সন্ধ্যা 6টার মধ্যে কল করুন, অথবা যেকোনো সময় WhatsApp-এ লিখুন।

WhatsAppকল করুন