প্রবাস থেকে পূর্বাচলের প্লট কেনা: আমমোক্তারনামা ও টাকা পাঠানো
সংক্ষেপে: বিদেশে থেকেও পূর্বাচলের প্লট কেনা যায়। বেশির ভাগ ক্রেতা দেশে বিশ্বস্ত কাউকে আমমোক্তারনামা দেন। এটি বাংলাদেশ মিশনে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে সই হয়, 6 মাসের মধ্যে দেশে পাঠাতে হয়, তারপর লাগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রমাণীকরণ ও জেলা কালেক্টরের স্ট্যাম্প; স্ট্যাম্প করাতে হয় দেশে পৌঁছানোর 3 মাসের মধ্যে। টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে নিজের হিসাবে আনুন, আর রাজউকে প্লট ও বিক্রেতা যাচাইয়ের পরেই সেখান থেকে বিক্রেতার নিজের হিসাবে দিন।
প্রবাস থেকে কেনার দুই উপায়
- দলিলের সময় দেশে আসুন। আগে আপনার আইনজীবী বা বিশ্বস্ত আত্মীয় যাচাই সেরে রাখেন; আপনি এসে নিজে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বায়নানামা ও সাফ কবলায় সই করেন। আমমোক্তারনামা লাগে না।
- আমমোক্তারনামা দিন। আপনার বিশ্বস্ত কেউ আপনার হয়ে বায়না ও দলিলে সই করেন, ফি দেন, কাগজ জমা দেন। প্রবাসী ক্রেতারা বেশির ভাগ এভাবেই কেনেন।
দুই ক্ষেত্রেই কেনার নিয়ম অন্য সবার মতো: রাজউকের 3% ফি, ক্রেতার সরকারি খরচ প্রায় 8.5%, আর 90 দিনের মধ্যে রাজউকে কাগজ জমা (হস্তান্তর গাইড)।
আমমোক্তারনামা, ধাপে ধাপে
- দেশে খসড়া করান। একজন আইনজীবীকে দিয়ে শুধু এই কেনার জন্য লেখান: প্লটের সেক্টর, রোড ও প্লট নম্বর, আর শুধু দরকারি ক্ষমতা (বায়নানামা ও সাফ কবলায় সই, ফি দেওয়া, নামজারির আবেদন ও রাজউকে কাগজ জমা)।
- বাংলাদেশ মিশনে সই করুন। যিনি আমমোক্তারনামা দিচ্ছেন, তিনি নিজে আপনার দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে হাজির হন, মিশনের চাওয়া কাগজ নিয়ে। প্রতিটি মিশন নিজের কাগজের তালিকা ও ফি ঠিক করে, তাই আগে মিশনের ওয়েবসাইট দেখে নিন।
- গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা 2015-এর ফেব্রুয়ারি 2025-এর সংশোধনী থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন চলে, আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ “নো ভিসা রিকোয়ার্ড” স্টিকারসহ বিদেশি পাসপোর্টও ব্যবহার করতে পারেন।
- 6 মাসের মধ্যে দেশে পাঠান, মিশনে প্রমাণীকরণের তারিখ থেকে (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা 2015, সংশোধিত বিধি 10(4ক))।
- দেশে প্রমাণীকরণ ও স্ট্যাম্প। দেশে প্রথম পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রমাণীকরণ করে, আর কালেক্টর (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) স্ট্যাম্প দেন; তারপর কালেক্টর একটি কপি সাব-রেজিস্ট্রারকে পাঠান নথিভুক্তির জন্য (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন 2012, ধারা 6)। দেশে প্রথম পৌঁছানোর 3 মাসের মধ্যে স্ট্যাম্প করাতে হয় (স্ট্যাম্প আইন 1899, ধারা 18)।
রাজউকের তফসিলে থাকা আবাসিক প্লটে নভেম্বর 2025 থেকে আমমোক্তারনামা করতে রাজউকের অনুমতি লাগে না। আপনার দেওয়া আমমোক্তারনামা পরে বাতিল করা যায়; কিন্তু টাকা নিয়ে বিক্রেতার দেওয়া আমমোক্তারনামা অপ্রত্যাহারযোগ্য, সেটি আলাদা বিষয় (বিস্তারিত)।
আমমোক্তারনামা কাকে দেবেন?
শুধু এমন কাউকে, যাঁকে আপনি পুরোপুরি বিশ্বাস করেন, কারণ তিনি আপনার নামে সই করবেন ও টাকা দেবেন। ক্ষমতা শুধু এই প্লটে সীমিত রাখুন। প্রতিটি রসিদ ও দলিলের কপি সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে পাঠাতে বলুন।
বিদেশে বসেও যে যাচাই করা যায়
- অনলাইনে প্রথম দেখা: রাজউকের EPMS-এর মালিকানা খোঁজে প্লটের নাম দেখা যায়। এটি শুধু প্রথম যাচাই (কীভাবে দেখবেন)।
- আসল যাচাই, আপনার আমমোক্তার বা আইনজীবীর মাধ্যমে: বিক্রেতাকে নিয়ে রাজউকের এস্টেট ও ভূমি শাখায় প্লটের নথি দেখা, আর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আগের দলিল তল্লাশি। বিক্রেতা বা দালালের দেওয়া “রাজউকের লোক” নেবেন না।
- বিক্রেতার সাথে ভিডিও কল, চেহারা এনআইডির সাথে মেলাতে আর বিক্রেতা সত্যিই বিক্রি করতে চান কি না শুনতে।
- বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে সরেজমিন দেখা: পিলার, মাপ, কেউ দখল করে আছে কি না, আর Google Maps-এ প্লটের লোকেশন সেভ করা।
যাচাইয়ের পুরো ক্রম আছে আমাদের 13 ধাপের চেকলিস্টে। 1 সেপ্টেম্বর 2026 থেকে পূর্বাচলের রাজউক-আবেদন EPMS-এ অনলাইনে হয়, আর আপনার আমমোক্তার সেখানেই আবেদন করবেন।
টাকা পাঠানো ও দেওয়া
- ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠান দেশে আপনার নিজের হিসাবে।
- সেখান থেকে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ট্রান্সফারে টাকা দিন বিক্রেতার নিজের হিসাবে, যে নাম বিক্রেতার এনআইডির সাথে মেলে। পে-অর্ডার বা ট্রান্সফারের নম্বর বায়না ও দলিলে লিখে দিন।
- আত্মীয়, এজেন্ট বা ব্রোকারের ব্যক্তিগত হিসাবে দামের টাকা পাঠাবেন না, আর ওপরের যাচাই শেষ হওয়ার আগে টাকা দেবেন না।
- সরকারি ফি ও কর পে-অর্ডার বা চালানে দিন, নগদে নয়।
- ব্যাংকের সব কাগজ রেখে দিন: এটি আপনার টাকা দেওয়ার প্রমাণ, আর টাকা কোথা থেকে এল তারও প্রমাণ।
দলিল মূল্য সরকারের সর্বনিম্ন (মৌজা) মূল্যের কম হতে পারে না। আমরা আসল দামের চেয়ে কম মূল্য দলিলে দেখানোর পরামর্শ দিই না; ঝুঁকিগুলো এখানে।
দলিলের পরে
- রাজউকে কাগজ: দলিলের 90 দিনের মধ্যে আপনার আমমোক্তার EPMS-এ দলিলের সার্টিফায়েড কপি ও নামজারির কাগজ জমা দেবেন; দেরিতে দিনে 50 টাকা, সর্বোচ্চ 10,000 টাকা জরিমানা।
- এসি ল্যান্ডে নামজারি: অনলাইনে আবেদন, মোট 1,170 টাকা। 2022 সালে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের আবেদনে কম সময় বেঁধে দেয়: মেট্রোপলিটন এলাকায় 12 কর্মদিবস, অন্যত্র 9, যেখানে অন্যদের জন্য 28 দিন (প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর 2022)।
- মূল কাগজ: বিক্রেতার কাছ থেকে সব মূল কাগজ বুঝে নিন (বরাদ্দপত্র, দখলপত্র, লিজ দলিল, আগের দলিল, রসিদ) আর নিরাপদে রাখুন।
প্রবাসী ক্রেতাদের আমরা যেভাবে সাহায্য করি
পূর্বাচল এস্টেট এজেন্সি 2010 সাল থেকে পূর্বাচলের প্লট কেনাবেচায় মধ্যস্থতা করছে। মালিক ও সহযোগী এজেন্টরা যেসব প্লট বিক্রির জন্য দিয়েছেন সেগুলো দেখাই, আপনাকে বা আপনার পাঠানো মানুষকে সরেজমিনে প্লট দেখাই, বিক্রেতার কাগজ দেখার বৈঠকের ব্যবস্থা করি, আর আগে থেকে সময় ঠিক করে রাজউক ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাথে যাই। প্লটের দামের টাকা আমরা হাতে নিই না; টাকা যায় সরাসরি মালিকের ব্যাংক হিসাবে। আমরা আইনজীবী নই, তাই আমমোক্তারনামা ও যাচাইয়ের জন্য নিজের আইনজীবী নিন। ফোন বা WhatsApp: 01711-482191। অফিস: বাড়ি 13, রোড 305, সেক্টর 24, পূর্বাচল নতুন শহর, ঢাকা (শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল 10টা–সন্ধ্যা 6টা; শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বন্ধ)। দাম ও ম্যাপের লোকেশনসহ প্লট দেখুন প্লট খুঁজুন পাতায়।
প্রবাসী ক্রেতারা যা জানতে চান
প্লট কিনতে কি দেশে আসতেই হবে?
না। বাংলাদেশ মিশনে করা আমমোক্তারনামা থাকলে বিশ্বস্ত কেউ আপনার হয়ে বায়না ও সাফ কবলায় সই করতে পারেন। নিজে সই করতে চাইলে তবেই আসুন।
বিদেশি পাসপোর্ট দিয়ে কি আমমোক্তারনামা করা যায়?
যায়, যদি আপনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হন আর পাসপোর্টে “নো ভিসা রিকোয়ার্ড” স্টিকার থাকে; পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালার ফেব্রুয়ারি 2025-এর সংশোধনী এটি অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনও চলে।
আমমোক্তারনামায় কি রাজউকের অনুমোদন লাগে?
রাজউকের তফসিলে থাকা আবাসিক প্লটে লাগে না: 9 নভেম্বর 2025-এর প্রজ্ঞাপন থেকে এমন প্লটে আমমোক্তারনামা করতে রাজউকের অনুমতি লাগে না। ব্যতিক্রমের প্লটে এখনো আগে অনুমতি লাগে।
বিক্রেতাও যদি বিদেশে থাকেন?
একই ধরনের আমমোক্তারনামায় সম্ভব। তখন মালিকের সাথে ভিডিও কল করুন, আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রি করা ও বাতিল হয়নি কি না দেখুন, আর টাকা দিন শুধু মালিকের নিজের হিসাবে।
সূত্র
- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন 2012 (ধারা 6: রেজিস্ট্রি; বিদেশে করা আমমোক্তারনামায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রমাণীকরণ ও কালেক্টরের স্ট্যাম্প)
- স্ট্যাম্প আইন 1899, ধারা 18: বিদেশে করা দলিল দেশে পৌঁছানোর 3 মাসের মধ্যে স্ট্যাম্প
- বিডিনিউজ24, 7 নভেম্বর 2025: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালার সংশোধন (গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র, 6 মাস)
- বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্ক: আমমোক্তারনামা সত্যায়ন (একটি মিশনের শর্তের উদাহরণ)
- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, 9 নভেম্বর 2025 (রাজউকের নোটিশে স্ক্যান)
- রাজউক EPMS: মালিকানা তথ্য অনুসন্ধান ও রাজউকের বিজ্ঞপ্তি, 31 আগস্ট 2026: পূর্বাচলের আবেদন অনলাইনে
- প্রথম আলো, 28 সেপ্টেম্বর 2022: ই-নামজারির সময়সীমা, প্রবাসীদের জন্যও
সর্বশেষ যাচাই: 25 অক্টোবর 2026। এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়; আমমোক্তারনামা দেশের একজন আইনজীবীকে দিয়ে লেখান ও যাচাই করান।