English 01711-482191

পূর্বাচলে প্লট কেনার আগে যা যাচাই করবেন

পূর্বাচলে প্লট কিনতে টাকা দেওয়ার আগে এই ক্রমে 5টি বিষয় নিশ্চিত হোন: রাজউকের লে-আউটে প্লটটি ঠিক কোনটি, রাজউকের নিজের নথিতে মালিক কে, বিক্রেতার পরিচয় ও ক্ষমতা, বরাদ্দের ক্যাটাগরি ও হস্তান্তরে কোনো বাধা আছে কি না, এবং কোনো বকেয়া আছে কি না। টাকা দিন শুধু ব্যাংকের মাধ্যমে, রেজিস্ট্রি করা বায়নার ভিত্তিতে, আর প্রতিটি কাগজ একজন আইনজীবীকে দেখিয়ে।

এই চেকলিস্ট রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহরে পুরোনো মালিকের কাছ থেকে প্লট কিনছেন এমন ক্রেতাদের জন্য। যে ক্রমে যাচাই করা উচিত সেই ক্রমেই ধাপগুলো সাজানো, যাতে কম খরচের যাচাই শেষ হওয়ার পরেই টাকা খরচ হয়। সর্বশেষ যাচাই: 8 অক্টোবর 2026।

সংক্ষেপে পূর্বাচল

  • রাজউকের প্রকল্প পাতা অনুযায়ী আয়তন 6,213 একর, সেক্টর 30টি, আবাসিক প্লট প্রায় 26,000টি (পাতাটিতে মোট 26,213টি প্লটের কথাও আছে, যার 24,724টি লেখার সময় পর্যন্ত বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল)। পাতায় তারিখ নেই; লক্ষ্যমাত্রাগুলো দেখে মনে হয় 2022 সালের দিকে লেখা।
  • আবাসিক প্লট 3, 5, 7.5 ও 10 কাঠার। 1 কাঠা = 720 বর্গফুট; অর্থাৎ 3 কাঠা = 2,160 বর্গফুট, 5 কাঠা = 3,600 বর্গফুট, 7.5 কাঠা = 5,400 বর্গফুট, 10 কাঠা = 7,200 বর্গফুট। কোনো নির্দিষ্ট প্লটের সঠিক আয়তন সেটির রাজউকের কাগজে যা লেখা আছে সেটিই।
  • প্লটগুলো রাজউকের কাছ থেকে 99 বছরের লিজে দেওয়া। আপনি কিনছেন বরাদ্দগ্রহীতার লিজস্বত্ব, তাই রেজিস্ট্রি দলিলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ রাজউকের নথি।

ধাপে ধাপে যাচাইয়ের চেকলিস্ট

ধাপ 1. রাজউকের লে-আউটে প্লটটি চিহ্নিত করুন

পূর্বাচলের প্রতিটি প্লটের ঠিকানা 3 অংশের: সেক্টর, রোড ও প্লট নম্বর। এটি লিখে নিন এবং প্রতিটি তথ্য রাজউকের লে-আউট প্ল্যানের সাথে মেলান, কোনো দালালের আঁকা নকশার সাথে নয়।

  • সেক্টর, রোড, প্লট নম্বর – সব কাগজে 3টিই হুবহু এক হতে হবে।
  • সাইজ – 3, 5, 7.5 না 10 কাঠা, আর কাগজে লেখা সঠিক আয়তন।
  • মাপ – সামনের প্রস্থ ও গভীরতা। একই কাঠার দুই প্লটের আকার আলাদা হতে পারে।
  • কোনমুখী – প্লটের সামনের দিক দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব না পশ্চিমমুখী।
  • সামনের রাস্তা – লে-আউট অনুযায়ী সামনের রাস্তা কত ফুট চওড়া।
  • কর্নার কি না – কর্নার প্লটের দুই পাশে রাস্তা থাকে।
  • পাশে কী আছে – লেক, পার্ক, খেলার মাঠ, স্কুলের প্লট, মার্কেটের প্লট, ইউটিলিটি প্লট, বড় এভিনিউ।

ধাপ 2. সরেজমিনে গিয়ে সীমানা পিলার মেলান

  • দিনের আলোয় নিজে প্লটে যান। রোড নম্বরের সাইনবোর্ড খুঁজে নিন এবং চেনা কর্নার থেকে প্লট গুনে আসুন।
  • সীমানা পিলার খুঁজে ফিতা দিয়ে সামনের প্রস্থ ও গভীরতা মাপুন। লে-আউট ও দখলপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
  • প্লট খালি আছে কি না, অন্য কেউ ব্যবহার করছে বা বেড়া দিয়েছে কি না দেখুন। আশপাশের লোক ও গার্ডদের জিজ্ঞেস করুন তাঁরা কাকে মালিক হিসেবে চেনেন।
  • মাটির লেভেল, পানি নিষ্কাশন, সামনের রাস্তার অবস্থা এবং কাছে বিদ্যুতের লাইন আছে কি না দেখুন।
  • Google Maps-এ লোকেশন সেভ করুন এবং পিলার ও রাস্তাসহ ছবি তুলে রাখুন।

ধাপ 3. মূল কাগজপত্র দেখুন

ফটোকপি বা মোবাইলের ছবি নয়, মূল কাগজ দেখতে চান। প্রকৃত মালিক বৈঠকে মূল কাগজ দেখাতে পারেন। কোন কাগজে কী দেখবেন তা নিচের টেবিলে আছে। আপনার আইনজীবীর জন্য পরিষ্কার কপি নিয়ে নিন।

ধাপ 4. একই তথ্য রাজউকে গিয়ে যাচাই করুন

এটিই সবচেয়ে জরুরি ধাপ। রাজউকের নিজের নথিতে একই কথা না থাকলে বিক্রেতার দেখানো কাগজে তেমন কিছু প্রমাণ হয় না। প্রথম আলোর 5 অক্টোবর 2022 তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বাচলের 9টি প্লট কিনতে ক্রেতারা প্রায় 84 কোটি টাকা দিয়েছিলেন ভুয়া মালিকদের, যারা জাল বরাদ্দপত্র, অফিস আদেশ, মালিকানা সনদ ও বিক্রয় অনুমতিপত্র ব্যবহার করেছিল। পুলিশ বলেছিল, রাজউকে খোঁজ নিলেই জালিয়াতি ধরা পড়ত।

  • বিক্রেতাকে সাথে নিয়ে, অথবা তাঁর লিখিত সম্মতি নিয়ে রাজউকে যান এবং এস্টেট ও ভূমি শাখায় জানতে চান ওই সেক্টর, রোড ও প্লটের বর্তমান বরাদ্দগ্রহীতা হিসেবে কার নাম নথিতে আছে।
  • প্লটের সাইজ, বরাদ্দের ক্যাটাগরি, সব কিস্তি পরিশোধ হয়েছে কি না, এবং নথিতে কোনো বিরোধ, মামলা, বাতিলের নোটিশ বা স্থগিতাদেশ আছে কি না নিশ্চিত হোন।
  • বিক্রেতা বা মধ্যস্থতাকারীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া কোনো “রাজউকের লোক”-এর কথায় ভরসা করবেন না। নিজে অফিসে যান অথবা নিজের আইনজীবীকে পাঠান।

ধাপ 5. বিক্রেতার পরিচয় ও ক্ষমতা যাচাই করুন

  • বিক্রেতার এনআইডির নাম, পিতার নাম, ছবি ও ঠিকানা বরাদ্দপত্র ও লিজ দলিলের সাথে মেলান। বিক্রেতার সাথে সামনাসামনি দেখা করুন।
  • একাধিক মালিক বা ওয়ারিশ থাকলে প্রত্যেককে সই করতে হবে। বরাদ্দগ্রহীতা মারা গিয়ে থাকলে ওয়ারিশ সংক্রান্ত কাগজ দেখুন এবং রাজউক ওয়ারিশদের নাম নথিভুক্ত করেছে কি না নিশ্চিত হোন।
  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা): এমন বিক্রিকে বেশি ঝুঁকির ধরুন। দেখুন এটি রেজিস্ট্রি করা কি না, এই প্লট বিক্রি ও টাকা গ্রহণের ক্ষমতা স্পষ্ট করে দেওয়া আছে কি না, বাতিল হয়নি তো, এবং মালিক জীবিত আছেন কি না। মালিকের সাথে সরাসরি ভিডিও কলে কথা বলুন এবং সম্ভব হলে টাকা অ্যাটর্নির নয়, মালিকের ব্যাংক হিসাবে দিন।
  • বিদেশে করা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাংলাদেশ মিশনে সত্যায়িত হয়ে দেশে এসে আরও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এর ওপর ভরসা করার আগে আইনজীবীকে দিয়ে দেখিয়ে নিন সব ধাপ সম্পূর্ণ আছে কি না।

ধাপ 6. বরাদ্দের ক্যাটাগরি ও হস্তান্তরের ব্যতিক্রম দেখুন

পূর্বাচলের প্লট বিভিন্ন কোটা ও ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ হয়েছে। বণিক বার্তার 20 জুলাই 2025 তারিখের প্রতিবেদনে প্রথম পর্যায়ের লটারিতে সরকারি কর্মকর্তা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, বেসরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিল্পী, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন কোটার বরাদ্দের কথা আছে; আদিবাসী (মূল অধিবাসী) ও জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তরাও প্লট পেয়েছেন। ক্যাটাগরি বরাদ্দপত্রেই লেখা থাকে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের 10 নভেম্বর 2025 তারিখে ঘোষিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর আবাসিক প্লট বিক্রি, দান বা উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তর এবং বন্ধক রাখতে সংস্থার পূর্বানুমতি লাগে না। ক্রেতা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্লটের ক্ষেত্রে দলিলমূল্যের 3% ফি দেন, এবং 90 দিনের মধ্যে দলিলের কপি ও নামজারির কাগজ রাজউকে জমা দিতে হয় (দেরি হলে দিনে 50 টাকা, সর্বোচ্চ 10,000 টাকা জরিমানা)। কাগজ পাওয়ার 30 দিনের মধ্যে রাজউকের নথি হালনাগাদ করার কথা।

আগের মতোই অনুমতি লাগবে যেসব ক্ষেত্রে:

  • জানুয়ারি 2009 থেকে জুলাই 2024-এর মধ্যে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ পাওয়া প্লট;
  • মালিকানা নিয়ে বিরোধ আছে এমন প্লট;
  • পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত প্লট;
  • অনাবাসিক প্লট (বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক, শিল্প);
  • প্লট ভাগ করা বা একাধিক প্লট একত্র করা।

মন্ত্রণালয় বলেছিল অনুমতি ছাড়া হস্তান্তরযোগ্য প্লটের তালিকা প্রকাশ করা হবে। অনিশ্চিত: পূর্বাচলের জন্য সেই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে কি না আমরা কোনো প্রকাশ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে পারিনি। আপনার প্লট তালিকায় আছে কি না রাজউকের কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন। নির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ ক্যাটাগরিতে হস্তান্তরের আর কোনো শর্ত আছে কি না সেটিও রাজউক থেকে নিশ্চিত হোন।

ধাপ 7. বকেয়া ও কিস্তি যাচাই করুন

  • বরাদ্দমূল্যের সব কিস্তি পরিশোধের রাজউকের রসিদ দেখতে চান, এবং রাজউকে গিয়ে নিশ্চিত হোন নথিতে কোনো বকেয়া নেই।
  • হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের রসিদ দেখুন।
  • কোনো সার্ভিস চার্জ আছে কি না জিজ্ঞেস করুন। পানির বিষয়ে প্রথম আলো 22 ফেব্রুয়ারি 2023 তারিখে জানিয়েছিল, নেটওয়ার্ক পৌঁছালে সংযোগ না নিলেও প্লট মালিকদের ন্যূনতম চার্জ দিতে হতে পারে।
  • রেজিস্ট্রির তারিখ পর্যন্ত সব বকেয়া বিক্রেতা পরিশোধ করবেন, এটি লিখিতভাবে ঠিক করে নিন।

ধাপ 8. দাম ও সব খরচ ঠিক করুন

  • চাওয়া দাম হলো বিক্রেতা শুরুতে যা বলেন। চূড়ান্ত দাম হলো দরদামের পরে যা ঠিক হয়। চূড়ান্ত দাম বায়নায় অঙ্কে ও কথায় লিখুন।
  • কে কোন খরচ দেবেন তার তালিকা করুন: 3% হস্তান্তর ফি (নভেম্বর 2025-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ক্রেতা দেন), সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রেশন খরচ ও কর, দলিল লেখক ও আইনজীবীর ফি, ব্রোকারের কমিশন, রাজউক বা ভূমি অফিসের ফি। রেজিস্ট্রেশন খরচ ও করের হার বদলায়; দাম চূড়ান্ত করার আগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা আইনজীবীর কাছ থেকে বর্তমান হার জেনে নিন।
  • প্রকৃত লেনদেনের চেয়ে কম মূল্য দলিলে লিখতে রাজি হবেন না। এতে টাকা দেওয়ার প্রমাণ দুর্বল হয় এবং কর ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ধাপ 9. বায়না: যা করবেন, যা করবেন না

করবেন

  • বায়না লিখিত করুন এবং রেজিস্ট্রি করুন। রেজিস্ট্রেশন আইন, 1908-এর 17ক ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি সইয়ের 30 দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করতে হয়।
  • বায়না করুন শুধু নথিভুক্ত মালিকের সাথে (অথবা যাচাই করা, রেজিস্ট্রি করা অ্যাটর্নির সাথে)।
  • সেক্টর, রোড, প্লট নম্বর, আয়তন, চূড়ান্ত দাম, বায়নার টাকা, বাকি টাকা, রেজিস্ট্রির শেষ তারিখ, কে কোন খরচ দেবেন এবং কোনো পক্ষ সরে গেলে কী হবে তা লিখুন।
  • রাজউকের নথির সাথে না মিললে বা প্লট হস্তান্তর করা না গেলে পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে, এমন শর্ত রাখুন।
  • সই করার আগে নিজের আইনজীবীকে দিয়ে পড়িয়ে নিন।

করবেন না

  • ধাপ 1 থেকে 7 শেষ হওয়ার আগে বায়নার টাকা দেবেন না।
  • প্লট ধরে রাখার জন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীকে নগদে “টোকেন” বা “বুকিং” দেবেন না।
  • খালি স্ট্যাম্পে সই করবেন না, পরে পূরণ হবে বলে ফাঁকা ঘর রাখবেন না।
  • সাদা কাগজের রেজিস্ট্রি ছাড়া বায়নাকে সুরক্ষা মনে করবেন না।
  • বায়নার সময় দামের বড় অংশ দিয়ে দেবেন না। বায়নার টাকা কম রাখুন, বাকিটা রেজিস্ট্রির দিনের জন্য রাখুন।

ধাপ 10. টাকা দিন ব্যাংকের মাধ্যমে

  • পে-অর্ডার, অ্যাকাউন্ট-পেয়ি চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারে বিক্রেতার নিজের নামের হিসাবে টাকা দিন, যে নাম এনআইডির সাথে মেলে।
  • পে-অর্ডার বা চেকের নম্বর বায়না ও বিক্রয় দলিলে লিখে দিন।
  • বিক্রেতার আত্মীয়, কর্মচারী, ব্রোকার বা “রাজউকের পরিচিত” কারও হাতে টাকা দেবেন না।
  • প্রতিটি রসিদ ও ব্যাংকের কাগজ রেখে দিন। বাকি টাকা রেজিস্ট্রির সময় দিন, আগে নয়।

ধাপ 11. রেজিস্ট্রি

  • প্লটটি যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এখতিয়ারে সেখানে হস্তান্তর দলিল রেজিস্ট্রি করুন। নিজে অফিসে উপস্থিত থাকুন। ওপরের 2022 সালের প্রতারণার ঘটনায় “রেজিস্ট্রি” করানো হয়েছিল ক্রেতার নিজের অফিসে বসে।
  • কোন অফিস তা নিশ্চিত হোন: পূর্বাচল এতদিন রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) ও কালীগঞ্জ (গাজীপুর) এই দুই ভাগে ছিল। 1 জুলাই 2026 তারিখে সরকারের নিকার কমিটি পুরো প্রকল্প ঢাকা জেলার অধীনে আনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এতে রেজিস্ট্রি অফিস কীভাবে বদলেছে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি; আপনার সেক্টরের প্লট এখন কোন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হচ্ছে তা আইনজীবীর কাছ থেকে জেনে নিন।
  • ধাপ 6-এর ব্যতিক্রমের বাইরের প্লটে 3% ফি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দিতে হয়। ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়া প্লটে বিক্রেতাকে আগে রাজউকের হস্তান্তর অনুমতি নিতে হবে।
  • দলিলের খসড়া শব্দ ধরে ধরে মিলিয়ে নিন: নাম, এনআইডি নম্বর, সেক্টর, রোড, প্লট, আয়তন, দাম, টাকা পরিশোধের বিবরণ।
  • রেজিস্ট্রির রসিদ এবং পরে মূল রেজিস্ট্রি দলিল সংগ্রহ করুন।

ধাপ 12. রেজিস্ট্রির পরে

  • ভূমি অফিসে নিজের নামে নামজারি সম্পন্ন করুন এবং ভূমি উন্নয়ন কর দিন।
  • 90 দিনের মধ্যে দলিলের কপি ও নামজারির কাগজ রাজউকে জমা দিন এবং তারিখসহ প্রাপ্তিস্বীকার নিন। রাজউক আপনাকে বরাদ্দগ্রহীতা হিসেবে নথিভুক্ত না করা পর্যন্ত খোঁজ রাখুন।
  • বিক্রেতার কাছ থেকে সব মূল কাগজ বুঝে নিন: বরাদ্দপত্র, দখলপত্র, লিজ দলিল, আগের দলিল, রসিদ।
  • বিক্রেতার উপস্থিতিতে সরেজমিনে দখল বুঝে নিন, পিলার আবার মিলিয়ে নিজের সীমানা চিহ্নিত করুন।
  • মূল কাগজের একটি পূর্ণ ফাইল এবং একটি স্ক্যান কপি রাখুন।

কাগজপত্র: কে দেয়, কী দেখবেন

কাগজকে দেয়কী দেখবেন
বরাদ্দপত্ররাজউকবরাদ্দগ্রহীতার নাম ও পিতার নাম এনআইডির সাথে মেলে কি না; সেক্টর, রোড, প্লট নম্বর ও সাইজ; বরাদ্দের ক্যাটাগরি; তারিখ ও স্মারক নম্বর; চিঠিটি রাজউকের নথিতে আছে কি না রাজউকে গিয়ে নিশ্চিত হোন।
বরাদ্দমূল্য পরিশোধের রসিদরাজউক / টাকা গ্রহণকারী ব্যাংকসব কিস্তি পরিশোধ; মোট টাকা বরাদ্দপত্রের মূল্যের সাথে মেলে; কোনো বকেয়া বা বিলম্ব ফি নেই।
দখলপত্ররাজউকপ্লটের ঠিকানা ও মাপ বরাদ্দপত্র ও সরেজমিনের সাথে এক; দখল বুঝিয়ে দেওয়ার তারিখ।
লিজ দলিল (99 বছর)রাজউক ও বরাদ্দগ্রহীতার মধ্যে সম্পাদিত; সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিদলিল নম্বর ও তারিখ; লিজগ্রহীতার নাম; প্লটের তফসিল; লিজের শর্ত; সই ও সিল।
আগের হস্তান্তর দলিল (প্লট আগে বিক্রি হয়ে থাকলে)সাব-রেজিস্ট্রি অফিসপ্রথম বরাদ্দগ্রহীতা থেকে বর্তমান বিক্রেতা পর্যন্ত মালিকানার ধারাবাহিকতা; প্রতিটি দলিল রেজিস্ট্রি করা; সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সার্টিফায়েড কপি তোলা যায়।
রাজউকের নামজারি / নাম পরিবর্তনের চিঠিরাজউকহাতবদল হওয়া প্লটে: রাজউক বর্তমান বিক্রেতাকে বরাদ্দগ্রহীতা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে কি না। রাজউকে যাচাই করুন।
নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআরভূমি অফিস (এসি ল্যান্ড)খতিয়ান বিক্রেতার নামে; প্লট ও আয়তন মেলে।
ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রসিদভূমি অফিসবিক্রেতার নামে চলতি বছর পর্যন্ত পরিশোধ।
বিক্রেতার এনআইডি (ও টিআইএন)নির্বাচন কমিশন / এনবিআরছবি ও তথ্য সামনে বসা ব্যক্তি এবং রাজউকের কাগজের নামের সাথে মেলে।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (থাকলে)সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি; বিদেশে করা হলে বাংলাদেশ মিশনে সত্যায়িতরেজিস্ট্রি করা; এই প্লট বিক্রি ও টাকা গ্রহণের নির্দিষ্ট ক্ষমতা দেওয়া; বাতিল হয়নি; মালিক জীবিত এবং তাঁর সাথে যোগাযোগ করা যায়।
ওয়ারিশ সংক্রান্ত কাগজ (বরাদ্দগ্রহীতা মারা গেলে)আদালত / স্থানীয় কর্তৃপক্ষসব ওয়ারিশের নাম আছে; সবাই সই করছেন; রাজউক ওয়ারিশদের নথিভুক্ত করেছে।
রাজউকের হস্তান্তর অনুমতি (শুধু ব্যতিক্রমের প্লটে)রাজউকপ্লট ধাপ 6-এর ব্যতিক্রমে পড়লে লাগবে; অনুমতিতে এই ক্রেতার নাম আছে এবং মেয়াদ আছে।

রাজউকের প্লট কেনাবেচায় সাধারণত যে কাগজগুলো দেখা যায় সেগুলোই এখানে দেওয়া হয়েছে। রাজউক বা আপনার আইনজীবী আরও কাগজ চাইতে পারেন।

সতর্ক সংকেত

  • বিক্রেতা শুধু ফটোকপি দেখান, বা বলেন মূল কাগজ “ব্যাংকে” বা “রাজউকে” আছে।
  • বিক্রেতা বা ব্রোকার রাজউকে যাচাই করতে নিরুৎসাহিত করেন, বা নিজেই যাচাই “ম্যানেজ” করে দিতে চান।
  • একই সাইজ ও অবস্থানের অন্য প্লটের চেয়ে দাম অনেক কম, সাথে আজই টাকা দেওয়ার চাপ।
  • টাকা নগদে চাওয়া হয়, বা এমন হিসাবে যা মালিকের নামে নয়।
  • মালিক বিদেশে, অথচ কেউ তাঁর সাথে সরাসরি ভিডিও কলের ব্যবস্থা করতে পারে না।
  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রি করা নয়, অনেক পুরোনো, বা এই প্লটের জন্য নির্দিষ্ট না হয়ে সাধারণ ধরনের।
  • বিভিন্ন কাগজে নাম, প্লট নম্বর বা আয়তনে সামান্য হলেও অমিল।
  • প্লটটি জানুয়ারি 2009 থেকে জুলাই 2024-এর মধ্যে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ, অথচ বিক্রেতা বলছেন রাজউকের অনুমতি লাগবে না।
  • একই প্লট কয়েকজন আলাদা দামে বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছে, কিন্তু কেউ মালিককে হাজির করতে পারছে না।
  • সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ছাড়া অন্য কোথাও রেজিস্ট্রির প্রস্তাব।
  • প্লট অন্য কারও দখলে, বা সরেজমিনের পিলার লে-আউটের সাথে মেলে না।
  • খালি স্ট্যাম্পে বা ফাঁকা ঘর রাখা চুক্তিতে সই করতে বলা হয়।

জাল বরাদ্দপত্র ও ভুয়া মালিকের ঘটনা ওপরে উল্লেখ করা 2022 সালের মামলায় নথিভুক্ত। একই প্লট একাধিকবার বিক্রি, জাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং রেজিস্ট্রি ছাড়া বায়না নিয়ে বিরোধ বাংলাদেশে জমি কেনাবেচার সাধারণ ঝুঁকি; এই তালিকার যাচাইগুলো সেগুলো ধরার জন্যই।

ব্রোকার হিসেবে আমরা কী করি, কী করি না

যা করি। পূর্বাচল এস্টেট এজেন্সি 2010 সাল থেকে পূর্বাচলের প্লট কেনাবেচায় মধ্যস্থতা করছে। মালিক ও সহযোগী এজেন্টরা যেসব প্লট বিক্রির জন্য আমাদের দিয়েছেন সেগুলো আমরা আপনাকে দেখাই, আমাদের জানানো চাওয়া দাম বলি, সরেজমিনে প্লট দেখানোর ব্যবস্থা করি এবং বিক্রেতার কাগজ দেখার জন্য বৈঠকের ব্যবস্থা করি।

যা করি না। আমরা মালিকানার নিশ্চয়তা বা সনদ দিই না। আমরা রাজউক, আইনজীবী বা সার্ভেয়ার নই, আর আমাদের সাইটে কোনো প্লট থাকা মানে তার কাগজ ঠিক আছে এমন প্রমাণ নয়। কোনো টাকা দেওয়ার আগে প্রতিটি প্লট নিজে রাজউকে যাচাই করুন এবং নিজের আইনজীবীর সাহায্য নিন। প্লটের দাম আমরা আমাদের কাছে জমা দিতে বলি না।

বর্তমান প্লটগুলো দেখুন প্লট খুঁজুন ও তুলনা করুন পাতায়, আর চাওয়া দাম কীভাবে বদলায় তা দেখুন পূর্বাচল প্লটের দাম পাতায়। ফোন বা WhatsApp: 01711482191। অফিস: বাড়ি 13, রোড 305, সেক্টর 24, পূর্বাচল নতুন শহর।

সাধারণ প্রশ্ন

পূর্বাচলের প্লট কিনতে কি রাজউকের অনুমতি লাগে?

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নভেম্বর 2025-এর প্রজ্ঞাপনের পর বেশির ভাগ আবাসিক প্লটে পূর্বানুমতি লাগে না; ক্রেতা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে 3% ফি দেন এবং 90 দিনের মধ্যে রাজউককে জানান। তবে জানুয়ারি 2009 থেকে জুলাই 2024-এর মধ্যে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ, বিরোধপূর্ণ, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ও অনাবাসিক প্লটে এখনো অনুমতি লাগে। আপনার প্লটের অবস্থা রাজউক থেকে নিশ্চিত হোন। (8 অক্টোবর 2026 পর্যন্ত তথ্য।)

বিক্রেতা যে প্রকৃত মালিক তা কীভাবে নিশ্চিত হব?

রাজউকের এস্টেট ও ভূমি শাখায় জেনে নিন ওই সেক্টর, রোড ও প্লটের বরাদ্দগ্রহীতা হিসেবে কার নাম আছে, এবং সেই নাম বিক্রেতার এনআইডি ও চেহারার সাথে মেলান। শুধু কাগজ দেখা যথেষ্ট নয়: জাল রাজউকের কাগজ দিয়ে প্রতারণার ঘটনা সংবাদে এসেছে।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে কেনা কি নিরাপদ?

সরাসরি মালিকের কাছ থেকে কেনার চেয়ে ঝুঁকি বেশি। শুধু এমন রেজিস্ট্রি করা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করুন যাতে এই প্লট বিক্রির ক্ষমতা স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে; এটি বাতিল হয়নি নিশ্চিত হোন, মালিকের সাথে নিজে কথা বলুন এবং আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই করান।

বায়না কি রেজিস্ট্রি করতে হয়?

হ্যাঁ। রেজিস্ট্রেশন আইন, 1908-এর 17ক ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি সইয়ের 30 দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করতে হয়। রেজিস্ট্রি ছাড়া বায়নায় আপনার সুরক্ষা দুর্বল।

দামের বাইরে ক্রেতার আর কী খরচ হয়?

দলিলমূল্যের ওপর 3% হস্তান্তর ফি (নভেম্বর 2025-এর প্রজ্ঞাপন), সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রেশন খরচ ও কর, দলিল লেখা ও আইনি ফি, নামজারির ফি এবং ব্রোকারের কমিশন। চূড়ান্ত দাম ঠিক করার আগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা আইনজীবীর কাছ থেকে বর্তমান হার জেনে নিন।

রাজউক নতুন মালিকের নাম নথিভুক্ত করতে কত সময় নেয়?

নভেম্বর 2025-এর প্রজ্ঞাপনে ক্রেতাকে দলিল ও নামজারির কাগজ জমা দিতে 90 দিন এবং এরপর সংস্থাকে মালিকানা হালনাগাদ করতে 30 দিন সময় দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে সময় কমবেশি হতে পারে; তারিখসহ প্রাপ্তিস্বীকার রেখে দিন এবং খোঁজ রাখুন।

তথ্যসূত্র

সর্বশেষ যাচাই: 8 অক্টোবর 2026 — সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়।

প্লট নিয়ে কথা বলতে চান?

অফিস সময়ে কল করুন, অথবা যেকোনো সময় WhatsApp-এ লিখুন।